স্কুলের ভেতরে পিয়নের সাথে প্রধান শিক্ষিকার কা’ণ্ড

স্কুলের ভেতরে পিয়নের সাথে প্রধান শিক্ষিকার কা’ণ্ড

ঝিনাইদহের শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিনের বি’রুদ্ধে পিয়নকে মা’রধ’রের অ’ভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত পিয়ন শহিদুল ইসলামকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ দিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিনের বি’রুদ্ধে থানায় লিখিত অ’ভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারী দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি গ্রুপের নেতৃত্বে প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিন ও অন্য গ্রুপের নেতৃত্বে সহকারী প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান।

দিলারা ইয়াসমিন মুক্তিযোদ্ধা দবির উদ্দিনের মেয়ে (সাবেক জাসদ নেতা ও বর্তমান আওয়ামী লীগ) এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান স্থানীয় বাসিন্দা। ফলে উভয়ের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের মাত্রা দিন দিন বাড়তে থাকে।

এসবের পর প্রায় দুই বছর আগে বিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাব-নিকাশ, স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অ’ভিযোগ প্রধান শিক্ষিকা দিলারা রহমানের নামে শিক্ষকরা মা’মলা দায়ের করে যা বর্তমানে বিচারাধীন। এরপরও নানা বিষয় নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।

এরই প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুরে প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিন বিদ্যালয়ের পিয়ন শহিদুল ইসলামকে (সহকারী প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমানের পক্ষের) নিজ কক্ষে ডাকেন। এ সময় রাগান্বিত হয়ে পিয়নকে মা’রধ’র ও গা’লিগা’লাজ করেন। পরে অন্য শিক্ষকরা পরিস্থিতি শান্ত করে পিয়নকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

পিয়ন শহিদুল ইসলাম জানান, ম্যাডাম আমাকে রুমে ডেকে নিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই মা’রধ’র ও গা’লিগা’লাজ করে, জামা-কাপড় ছিঁড়ে দেয়। আমি চাই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক, কেন আমাকে মা’রা হলো।

বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিন বলেন, আমার বি’রুদ্ধে আনীত অ’ভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এরকম ঘটনা বিদ্যালয়ে ঘটেনি।

বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি তৈয়বুর রহমান খান জানান, অ’ভিযোগ আমার কাছে আসা মাত্র আমি কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। এরপর ব্যবস্থাপনা কমিটির সকলকে নিয়ে বৈঠকে বসা হবে। তখন সকলের সিদ্ধান্তের পরই বিষয়টি সমাধান করা হবে।

শৈলকুপা থানার ওসি বজলুর রহমান জানান, পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা দিলারা ইয়াসমিনের বি’রুদ্ধে মা’রধ’রের অ’ভিযোগ এনে ওই বিদ্যালয়ের পিয়ন শহিদুল ইসলাম লিখিত অ’ভিযোগ দিয়েছেন। আমরা তদন্ত করে আ’ইনগত ব্যবস্থা নেব।

শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাকিব উদ্দিন জানান, হাসপাতালে ভর্তি শহিদুল ইসলামের মুখে ও ঘাড়ে আ’ঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এটি আশ’ঙ্কাজনক নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 banglareport71.com