প্রতি মাসে সম্রাট-খালেদের কাছে থেকে ১৪ লাখ টাকা চাঁদা নিতেন মেনন!

প্রতি মাসে সম্রাট-খালেদের কাছে থেকে ১৪ লাখ টাকা চাঁদা নিতেন মেনন!

ক্যাসিনোর ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন রিমান্ডে থাকা যুবলীগের ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

রিমান্ডে খালেদ জানিয়েছেন, ক্যাসিনো কারবার থেকে প্রতি মাসে মেনন চার লাখ টাকা নিতেন। এ ছাড়া সম্রাটের কাছ থেকেও অর্থ নিতেন তিনি। তবে প্রতি মাসে প্রাপ্ত টাকার অঙ্ক বাড়াতে মেনন একাধিকবার ডেকে চাপও দিয়েছেন বলে দাবি করেন খালেদ। সর্বশেষ এই টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে না দেওয়ায় গালাগালিও করেছেন তিনি।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট স্বীকার করেছেন, ঢাকার একাধিক অভিজাত ক্লাব থেকে ক্যাসিনোর টাকা তুলতেন তিনি। এর মধ্যে ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব অন্যতম।

এ ছাড়া মতিঝিল দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব থেকেও ক্যাসিনোর টাকা পেতেন সম্রাট। ভিক্টোরিয়া ক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের ক্যাসিনোর অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন তিনি।

প্রতি মাসে স্থানীয় সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন তার কাছ থেকে থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা নিতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে তিনি এ তথ্য দিয়েছেন। সংশ্নিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইয়ংমেনস ক্লাব থেকে র‌্যাবের উদ্ধার করা চাঁদাবাজির খাতায় মেননের নাম রয়েছে ৫নং সিরিয়ালে।

স্থানীয় এমপি হিসেবে মেননকে অবগত করেই মতিঝিল ও আরামবাগের বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনো খোলা হয়। ফকিরাপুলে ক্যাসিনো চালানো ইয়ংমেনস ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ছিলেন রাশেদ খান মেনন। ওই ক্লাবের সভাপতি ছিলেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

ইয়ংমেনস ক্লাবে র‌্যাবের অভিযানের সময় দেখা যায় সেখানে একটি কক্ষে রাশেদ খান মেননের ছবি ঝোলানো রয়েছে। একটি ক্রেস্ট প্রদান বা গ্রহণ করছেন- এমন আরেকটি ছবিও ঝুলছিল।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, সম্রাট তার আস্থাভাজন হিসেবে কাউন্সিলর মমিনুল হক সাইদ, আরমান, স্বপন, সরোয়ার হোসেন মনা, মিজানুর রহমান বকুল, মোরছালিনকে ব্যবহার করতেন।

মৎস্য ভবনে সম্রাটের আস্থাভাজন হিসেবে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করতেন বাবু ওরফে ক্যারেনসি বাবু। ‘গ্লাসবয়’ হিসেবে পরিচিত জাকিরের কাছে সম্রাটের কোটি কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের নেতা রবিউল ইসলাম সোহেলও সম্রাটের ক্যাসিনো পার্টনার। একজন সাবেক এমপির এপিএস সম্রাটের সঙ্গে ক্যাসিনো আসরে নিয়মিত যেতেন।

৬ অক্টোবর চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার হন সম্রাট। একই সঙ্গে গ্রেফতার হন তার সহযোগী এনামুল হক আরমান। সম্রাট ও আরমানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে র‌্যাব।

সম্রাট, আরমান ও খালেদ ছাড়াও ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার হন কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি সফিকুল আলম ফিরোজ, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি লোকমান হোসেন ভূঁইয়া ও অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসায়ী সেলিম প্রধান।

গত ১১ অক্টোবর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেফতার করা হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানকে। সর্বশেষ গতকাল রাতে বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তারেকুজ্জামান রাজীবকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 banglareport71.com