বিচার না পেয়ে নিজেই বদলি হলেন ইউএনও

বিচার না পেয়ে নিজেই বদলি হলেন ইউএনও

উপজেলা যুবলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির আহ্বায়ক যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল হক রেজার অশালীন আচরণ ও হত্যার হুমকির ঘটনায় থানায় মামলা করে বিচার না পেয়ে অবশেষে আক্ষেপ নিয়ে নিজেই বদলি হলেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম সাইফুর রহমান।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে বেলকুচি কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন ইউএনও। তবে তার বদলির ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হলে এটিকে রুটিনওয়ার্ক বলে দাবি করেছে জেলা প্রশাসন।

ইউএনওর বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, বৃহস্পতিবার সাইফুর রহমানকে বদলি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে মর্মে চিঠি পেয়েছি।

এ বিষয়ে ইউএনও এসএম সাইফুর রহমান বলেন, আমরা সরকারি চাকরি করি। সরকার যেখানে ঠিক মনে করে সেখানে নিয়ে যায়।

তবে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহে প্রভাব বিস্তারে বাধা দেয়ায় (২২ মে) উপজেলা চেয়ারম্যানের কক্ষে অবস্থান নিয়ে যুবলীগ নেতা রেজা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা পুরো দপ্তরে আতঙ্কজনক পরিবেশ সৃষ্টি করে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলার পর থেকে অনেকটা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছিল আমাকে।

তিনি বলেন, মামলার পর আসামিদের গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্ত করে ফাইনাল প্রতিবেদন আদালতে দেয়া হলে বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন। এমন পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে কর্মস্থল ত্যাগ করলাম। মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য ইতোমধ্যে আইনজীবী নিয়োগ করে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেছি আমি।

এ বিষয়ে ইউএনওর আইনজীবী সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসিম সরকার হাকিম বলেন, বাদীকে নোটিশ না করে মামলাটি খারিজ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাদী ইউএনও সাইফুর রহমান রিভিউয়ের জন্য ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেছেন। দেখা যাক রিভিউয়ে কী হয়।

মামলাটি তদন্তের পর বেলকুচি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম রেজা সব আসামিকে অব্যাহতি দিয়ে ২৬ জুন আদালতে প্রতিবেদন দেন। পরে ৪ সেপ্টেম্বর আদালত থেকে মামলা খারিজ করে দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম প্রতিরোধ এবং খাদ্যগুদামে ধান সরবরাহে বাধা দেয়ায় গত ২২ মে দুপুরে উপজেলা যুবলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজাসহ ২০-২৫ জনের একটি দল উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাজেদুলের কক্ষে গিয়ে ইউএনওকে গালিগালাজ করেন।

এ সময় তারা ইউএনওকে হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ইউএনও এসএম সাইফুর রহমান বাদী হয়ে রেজাসহ সাত জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজ্জাদুল হক রেজা, পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি আরমান, কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রিয়াদ, যুবলীগ নেতা রিপন, সাইদুল, জহুরুল এবং সোহাগ হোসেন।

এছাড়া স্থানীয় এমপি মন্ডল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মমিন মন্ডলের ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুল হক রেজা উপজেলায় ত্রাসের রাজনীতি করে আসছেন দীর্ঘদিন। সবসময় নিজস্ব বাহিনী চলাচল করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 banglareport71.com