আমাকে ফাঁ’সি দিয়ে দাও: বুয়েট উপাচার্য

আমাকে ফাঁ’সি দিয়ে দাও: বুয়েট উপাচার্য

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় ব’র্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী হ’ত্যা’র ঘটনায় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমাকে ফাঁ’সি দিয়ে দাও।’

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় নিজ কার্যালয়ে হল প্রভোস্টদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে পদত্যাগ দাবি করলে তিনি এ কথা বলেন। উপাচার্য কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাঁকে ঘিরে ধরে। এ সময় আট দফা দাবির ঘোষণা চায় শিক্ষার্থীরা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে জানতে চায়, রোববার রাতে আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যার পর এত সময় ধরে তিনি কোথায় ছিলেন? একপর্যায়ে উপাচার্য মাইকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথা বলতে চান।

কথার শু’রুতেই তিনি বলেন, ‘আবরারের মৃ’ত্যু হয়েছে।’ তখন শিক্ষা’র্থীরা ‘মৃ”ত্যু’ নয় খু’ন হয়েছে’ বলে চিৎকার করতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ঠিক আছে, খু’ন”ই হয়েছে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে আমি অ’ক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি। পাঁচ-ছয়’জ’নকে নিয়ে বসেছি। সব তো আমার হাতে নেই। যেগুলো আমার হাতে আছে, সেগুলো আমি করছি। নীতিগতভাবে তোমাদের পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। সারা দিন মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তোমরা অ’ধৈর্য হবে না।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির বিষয়ে সিন্ধান্ত না দিয়ে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস না ছাড়ার দাবি জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি তো কোনো অন্যায় করিনি।’

তখন শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে স্লোগান দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছে।

আবরার
উপাচার্য সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বারবার বলতে থাকেন, ‘এখানে কথা বলার জায়গা না। কথা বলতে দশজন প্রতিনিধি আমার সাথে বসো।’

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে চিৎকার করে ওঠে।

পরে আবারো উপাচার্য বলেন, ‘আমি অসুস্থ। সরকারপ্রধান জানেন, আমি কী করেছি। আমি চেষ্টা করছি এর সুষ্ঠু সমাধান করার।’

কিন্তু আট দফা দাবির বিষয়ে অটল থাকে ছাত্রছাত্রীরা। পরে উপাচার্য বলেন, আমি তোমাদের সাত দফার সঙ্গে একমত পোষণ করছি। তোমরা প্রতিনিধি দাও। প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলব। আমি এক কথায় বললাম, তোমাদের দাবির সঙ্গে একমত।’

এরপরও শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ঘিরে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এর আগে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে হত্যার ৩৬ ঘণ্টা পর আজ বিকেল ৫টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এরপর তিনি হল প্রভোস্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। তখন শিক্ষার্থীরা তাঁর কক্ষে তালা মেরে কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ অবরোধ করতে থাকে।

আজ সকালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিকেল ৫টার মধ্যে উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে আসার আলটিমেটাম দেয়। তিনি না এলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলেও শিক্ষার্থীরা জানায়।

বিকেল ৫টা ১০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এসে উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের পাঁচজন প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার প্রস্তাব দেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা মানতে নারাজ। উপাচার্যকে সবার সামনে জবাবদিহিতার আহ্বান জানায়

শিক্ষার্থীরা জানায়, ফাহাদ হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চায় তারা। উপাচার্য কথা বলতে না চাইলে তাঁর কার্যালয়ে তালা মারার ঘোষণা দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শফিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, উপাচার্য ডিনদের সঙ্গে মিটিং করছেন। এরপর তিনি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন।

তবে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হ’ত্যা’কা’ণ্ডের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের এমন নীরবতায় তীব্র সমালোচনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীলদলের শিক্ষক নেতারা বুয়েটের উপাচার্য ও শেরেবাংলা হলের প্রভোস্টের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

রোববার রাতে হ’ত্যা’কাণ্ড হলেও ঘটনাস্থল শেরেবাংলা হলে আসেননি উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বারবার উপচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বললেও তা আমলে নেননি হল প্রভোস্ট। এমনকি সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে আবরারের জানাজায়ও ছিলেন না তিনি। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন আবরার ফাহাদ। এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাঁকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ’ত্যু হয়। পিটুনির সময় আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খু’নি’রা। তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তা’র করেছে পুলিশ। তাদের আজ পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে আবরার ফাহাদের বাবা গতকাল রাতে চকবাজার থানায় একটি হ’ত্যা’ মা’ম’লা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এদিকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১ জনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সুত্র: এনটিভি অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 banglareport71.com