কুমিল্লায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ধ’র্ষণ করে ২ লাখ টাকা ও স্বর্ণলংকার লুট

কুমিল্লায় প্রবাসীর স্ত্রীকে ধ’র্ষণ করে ২ লাখ টাকা ও স্বর্ণলংকার লুট

কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন কাশিনগর ইউনিয়নের অশ্বদিয়া গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধ’র্ষণ করে নগদ টাকা ও স্বর্ণলংকার লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ধ’র্ষিতা প্রবাসীর স্ত্রী (৩৫) বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মূমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে অশ্বদিয়া গ্রামের মৃত: ছালামত মিয়ার ছেলে প্রবাসী জাকির হোসেন (৪৫) এর স্ত্রী।

ধ’র্ষিতা জানান, আমি মঙ্গলবার দুপুরে কাশিনগর বাজার অগ্রণী ব্যাংক শাখা থেকে আমার নিজের একাউন্ট থেকে আমার প্রবাসী স্বামীর পাঠানো এক লক্ষ টাকা তুলে বাড়িতে আসি এবং ঐ টাকা ঘরের মধ্যে আলমারিতে রাখি।

রাতে প্রতিদিনের মত আমি ও আমার ১০ বছর বয়সী ছোট মেয়েকে নিয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়ি। এরই মাঝে ঘরের সিলিংএর উপর থেকে শব্দ শুনে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।

কিছুক্ষণ পরে টচ লাইট হাতে নিয়ে ঘরের ভিতরের দরজা খুলতেই দেখি কুদ্দুছ (৩৮) ও শাহজাহান (৪০) দুই বখাটে যুবক আমাকে ঝাপ্টে ধরে জোরপূর্বক মুখে টেপ মারে এবং আমার হাতে, পায়ে গামছা এবং ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে আমাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন ও ধ’র্ষণ করে।

বুধবার রাত তখন আনুমানিক ৩টা বাজে। ধ’র্ষণ ও নির্যাতনের কারণে এক পর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। কিছুক্ষণ পরে কিছুটা জ্ঞান ফিরলে উঠে দেখি আমার ঘরের আলমারি ভেঙ্গে ব্যাংক থেকে তোলা নগদ ১ লক্ষ ও ঘরে থাকা আরো ১ লক্ষ সহ মোট নগদ ২ লক্ষ টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণ নিয়ে প্রতিবেশী মৃত: রব্বান আলীর ছেলে বখাটে কুদ্দুছ ও পাশ্ববর্তী মৃত: আব্দুর রশিদের ছেলে বখাটে শাহজাহান পালিয়ে যায়।

আমি তাদের তাৎক্ষণিক চিনতে পারি। ধ’র্ষিতা অভিযোগ করে আরো বলেন, আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি এবং ছেলে ও তার বাবা বর্তমানে সৌদি আরবে চাকুরী করছে।

এমতাবস্থায় আমাকে বাড়িতে একা পেয়ে বখাটে কুদ্দুছ ও শাহজাহান টাকার লোভে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে দিনের কোন এক সময় ঘরের সিলিংএ অবস্থান করে। আমি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এর ন্যায় বিচার দাবী করছি এবং স’ন্ত্রাসী ও বখাটে দুই যুবককে গ্রে’ফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দাবী করছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় কাশিনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন এর সাথে ফোনে কথা বলে জানা যায় ঘটনাটি সত্য। ঘটনা জানার সাথে সাথে তিনি চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করলে তিনি তদন্ত কর্মকর্তা সহ ফোর্স পাঠালে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন এবং মামলা রজু করে আসামীদের দ্রুত গ্রে’ফতার করার আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার তদন্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমার সাথে বিকেলে তার মুঠো ফোনে বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন এবং বলেন আমরা ঘটনাস্থল পরদির্শন করেছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে, মামলা শেষে সুনির্দিষ্ট আসামীদের গ্রে’ফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 banglareport71.com