আসামী বাবাকে দেখতে লুকিয়ে ১০ কিঃমিঃ পাড়ি দিলো ছোট্ট মেয়ে!

আসামী বাবাকে দেখতে লুকিয়ে ১০ কিঃমিঃ পাড়ি দিলো ছোট্ট মেয়ে!

মহিমা’ বয়স মাত্র ৬ পেরিয়ে ৭ এ পড়েছে। নামের সাথে রয়েছে অসাধারণ মিল। বাবার প্রতি এইটুকু মেয়ের ভালোবাসা দেখে অনেকে হতবাক। ঘটনাটি সোমবার বিকেলের। পাঠকদের উদ্দেশ্য ঘটনাটি তুলে ধ’রা হলো ।

মহিমা’র বাবা মজিবর মা’দক মা’মলার আ’সামি হয়ে নারায়ণগঞ্জ জে’লা কারাগারে হাজতবাস করছেন। বাবাকে না পেয়ে বারবার তার মায়ের কাছে বায়না ধরেছে বাবাকে দেখার জন্য। অনেক দিনে বাড়িতে না আসায় বাবার জন্য প্রায়ই কা’ন্নাকাটি করে মহিমা।

এজন্য মায়ের হাতে তাকে মা’রধরও খেতে হয়েছে কয়েকবার। তবুও নাছোড় বান্দা সে। বাবার সাথে দেখা করবেই। বাবার প্রতি মেয়ের টান তাকে ঘরে আ’ট’কে রাখতে পারেনি। মায়ের কাছে জানতে পারে তার বাবা জে’লখানায় আছে। তাই ১০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বাবাকে এক নজর দেখার জন্য ফতুল্লার মাহমুদপুর করিম মা’র্কেট এলাকা থেকে একা একা নারায়ণগঞ্জ জে’লা কারাগারে ছুটে আসে ছোট্ট মহিমা ।

কারাগারের সামনে এসে কী’ভাবে দেখা করতে হবে তা তো জানে না সে। উপায় না পেয়ে কাঁদতে থাকে। তার কা’ন্নায় ভারী হয়ে ওঠে কারাগারের পরিবেশ। একা একা একটা ছোট্ট মেয়ে কারাগারের সামনে কাঁদতে দেখে এগিয়ে আসে কারারক্ষীরা।

ছোট্ট মহিমাকে জিজ্ঞাসা করতেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে সে। বলতে থাকে, সে তার বাবার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। মা তার বাড়িতে নি’র্যাতন করে বলে জে’লখানায় বাবার খোঁজে একা একাই চলে এসেছে। কারা কর্তৃপক্ষ মেয়েটির সাথে কথা বলে তার বাবার সাথে দেখা করিয়ে দেয়। পরে কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জে’লা কারাগারের ডেপুটি জে’লার তানিয়া জামান বলেন, বাচ্চা মেয়েটি কা’ন্না করতে থাকে। এক পর্যায়ে মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তার বাবার সাথে দেখা করতে এসেছে। বাবার নাম বলতে পারায় তার বাবাকে খবর দেয়া হয়। বাবা নিজের মেয়ে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরে মেয়ের বাবার থেকে ঠিকানা নিয়ে মেয়েটিকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।

এদিকে মহিমা’র সাথে তার বাবার সাক্ষাতের পর কয়েকটি ছবি নারায়ণগঞ্জ জে’লা কারাগারের ফেসবুকে আপলোড করার পর আলমগীর নামের একজন মন্তব্য করে লিখেছেন,

এ ধরনের ভাল কাজগু’লি কারা অধিবদপ্তর আশা করি নোট করে রাখবেন এবং কারা সপ্তাহে সম্মানোনা প্রদান করবেন যাহাতে সবাই মানবিকতা ও মহৎ কাজের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে আগামীতে।

শামসুল আলম নজরুল লিখেছেন, বাবার প্রতি মেয়ের এক অফুরন্ত ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর কারা কতৃপক্ষের মানবিকতা। অনেক সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য আন্তরিক অ’ভিনন্দন।

শুভ্র ঘোষ লিখেছেন, সহনশীলতা, মানবিকতা, সর্বোপরি আমাদের প্রত্যেকের এক সাথে কাজ করার মানসিকতায়, নারায়ণগঞ্জ কারাগার একের পর এক সফলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে। এই কারাগারের উন্নয়নমূলক ও ভালো কাজ করার পিছনে কারাগারের প্রত্যেক সদস্যদের অবদান অ’তুলনীয়। ধন্যবাদ এই পরিবারের সকল সদস্যদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 banglareport71.com