অবশেষে যেখানে পাওয়া গেল ডিসির সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত সেই নারীকে

অবশেষে যেখানে পাওয়া গেল ডিসির সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত সেই নারীকে

জামালপুরের বিতর্কিত সাবেক ডিসি আহমেদ কবীর অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে তার অফিসের এক নারীকর্মীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে ওই জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এরপর থেকেই ওই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

এ ঘটনায় জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরকে ওএসডি করা হয়। তার বদলে নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ এনামুল হক।

অপকর্মের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে ওই ডিসি ও নারীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

একটি সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারেই জামালপুর ছেড়েছে অন্যত্র চলে গেছেন জামালপুরের বির্তকিত সেই জেলা প্রশাসক।

জানা যায়, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শনিবার রাত ৩টায় তিনি জামালপুর ত্যাগ করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন।

এছাড়া ওই ঘটনার পর থেকে পাওয়া যাচ্ছে না সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা নামের সেই নারী অফিস সহকর্মীকে। ওই ঘটনার পর থেকেই তার হদিস মিলেনি।

এ ঘটনায় পর থেকে এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন ছুঁড়েন, অভিযুক্ত ওই নারী সহকর্মী কি নিজ থেকে আত্মগোপনে গেলেন? নাকি ডিসি আহমেদ কবীরই তাকে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছেন?

রবিবার নিয়মিতভাবেই কর্মক্ষেত্রে যোগদানের কথা ছিল সাধনার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তবে তাকে ডিসি অফিসে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাজিব কুমার সরকার জানান, বিনা নোটিশে কর্মক্ষেত্রে সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা অনুপস্থিত রয়েছেন। তাকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে সাধনার মা জানিয়েছেন, তার মেয়ে বেড়াতে গিয়েছে।

সাধনার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি।

এদিকে আজ সোমবার থেকে অফিস শুরু করেছেন বিতর্কিত সেই নারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা। তার অফিসে আগমন উপলক্ষে ডিসি অফিসের বাইরে ভিড় করছেন সংবাদকর্মী ও উৎসুক জনতা। সেই ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা।

এ বিষয়ে তার সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।

সবশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনো বাইরে অবস্থান করছেন সাংবাদিক ও উৎসুক জনতা।

এরআগে ওই ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর গত শনিবার আহমেদ কবীরকে ওএসডি করার সিদ্ধান্তের কথা জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এরপর রোববার আহমেদ কবীরকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এদিনই পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ এনামুল হককে জামালপুরের নতুন ডিসি নিয়োগ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট বিকেলে ‘খন্দকার সোহেল আহমেদ’ নামের একটি পাবলিক ফিগার ফেসবুক পেজ থেকে জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চপদধারী এই সরকারি কর্মকর্তা তার অফিসেই একজন নারীর সঙ্গে অবৈধ মেলামেশার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়। ফেসবুক আইডি থেকে এটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ব্যাপক হারে নজরে আসতে থাকে ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারীদের কাছে। এদিকে শুক্রবার ভোররাত থেকে রহস্যজনক কারণে ওই আইডির ওয়াল থেকে ভিডিও লিংকটি সরিয়ে নেয়ায় সন্দেহ আরো দানা বেঁধে উঠেছে।

এমন ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। ওই ভিডিওটিতে যে কক্ষটি দেখা যাচ্ছে সেটি জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের অফিস কক্ষে তার চেয়ারের ঠিক ডান পাশের ছোট একটি কক্ষ। ছোট এই কক্ষটিতে একটি ছোট খাট বসানো হয়েছে। কক্ষটি বেশ পরিপাটি দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটিতে পুরুষ ব্যক্তিটিই জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। আর যে নারীকে দেখা যাচ্ছে তিনি এই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমেই সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া একই অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2019 banglareport71.com